কুড়িগ্রাম নদীবন্দরে অতিরিক্ত ভাড়া ও খাজনা আদায়সহ নানা অনিয়ম নিয়ে এমপি'র ক্ষোভ
কুড়িগ্রাম নদীবন্দরে অতিরিক্ত ভাড়া ও খাজনা আদায়সহ নানা অনিয়ম নিয়ে এমপি'র ক্ষোভ
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী নদীবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে পোর্ট অফিসারের সামনেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর দেওয়া ৭ মিনিট ১০ সেকেন্ডের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্রের উপস্থিতিতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য। ভাইরাল ভিডিওতে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি ওই ঘাটে যান।
ফিরে আসতে পারেন কিনা দেখেন। আমি এমপি বলে গেলাম। আমাকে লাগবে না। আমি কোনো নির্দেশও দেব না, কিছুই বলব না। আমি জনগণকে নিয়ে লড়ি। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করি।’ একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
পোর্ট অফিসারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এগুলো কি আপনার চোখে পড়ে না? এ বিষয়ে কখনও প্রতিবাদ করেছেন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন?’ ভিডিওতে আরও দেখা যায়, নদীবন্দরে নৌযান থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়গুলো তিনি উত্থাপন করবেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, ‘ভিডিওতে যা দেখেছেন, তাই। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।’ এদিকে, ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ধরন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘কেউ অনিয়ম করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। একজন সংসদ সদস্যের প্রকাশ্যে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে এভাবে হুমকি দেওয়া সমীচীন নয়।
’ চিলমারী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ নুর আলম মুকুল বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। ঘাটের ইজারা, খাজনা ও নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা এমন স্থানে টানানো উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তা দেখতে পারেন। তিনি বলেন, নদীবন্দরের অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার এখতিয়ার সংসদ সদস্যের রয়েছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী মোঃ সাইদুর রহমান সাইদ বলেন, ‘প্রকাশ্যে কাউকে হুমকি দেওয়া আইনগতভাবে অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি মনে করেন তিনি ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির শিকার হয়েছেন, তাহলে প্রচলিত আইনে প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে সংসদ ভবনের একটি কর্মসূচিতে আছি।’
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স